চিয়া সিড খাওয়ার নিয়ম ও উপকারিতা

 

আজকে আমাদের আলোচ্য বিষয় হলো চিয়া সিড। চিয়া সিড মূলত একটি গাছের বীজ। এটি মূলত মরুভূমিতে বেশি জম্মায়। এটি দেখতে কিছুটা শস্যে জাতীয় উদ্ভিদ এর মতো। আর চিয়া সিড দেখতে অনেকটা তিলের দানার মতো। চিয়া সিড মূলত মধ্য আমেরিকা ও মেক্সিকোর প্রাচীন সভ্যতা থেকে প্রচলিত হয়ে আসা একটি  সুপারফুড। আর চিয়া সিডের মধ্যে থাকা পুষ্টি উপাদান এবং এর সঠিক ব্যবহারের নিয়ম জানলে আপনি সহজেই ওজন কমাতে পারবেন। তা নিচে আলোচনা করা হলোঃ 

                                            

চিয়া সিড কী?

চিয়া সিড হলো একটি মিন্ট জাতীয় বীজ। দুধ ডিমের চাইতে চিয়া সিডে বেশি প্রোটিন ও ক্যালসিয়াম রয়েছে বলেই জানা যায়। যা সালভিয়া হিসপানিকা (Salvia hispanica) নামক উদ্ভিদ থেকে আসে। আর চিয়া সিডে প্রোটিন,ফাইবার ,আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম এবং ফ্যাটি এসিডের পরিমান টাও বেশী। আবার আরো একটি গুন রয়েছে, এটি পানির সংস্পর্শে এলে ফুলে জেলির মতো আকার ধারণ করে, যা ওজন কমাতে সাহায্য করে। কাজেই চিয়া সিড খাওয়ার উপকারিতা রয়েছে।

চিয়া সিড খাওয়ার নিয়ম

স্মুদি ও পানীয়তে মিশিয়েঃ

  চিয়া সিড পানিতে ভলো ভাবে ভিজিয়ে দিয়ে বিভিন্ন স্মুদি, জুস বা অন্যান্য পানীয় জাতীয় খাবার এর সাথে মিশিয়ে খাওয়া যায়। এতে স্মুদি বা পানীয়ের স্বাদ বাড়ে এবং পুষ্টিগুণ আগের থেকে আরও বেড়ে যায়।

দই ও ওটমিলের সাথেঃ

চিয়া সিড পানিতে ভিজিয়ে রেখে দই বা ওটমিলের সাথে মিশিয়ে খাওয়া যায়। এটি খাবার এর জন্য খুবই স্বাস্থ্যকর একটি উপায়।

সালাদ ও ড্রিংকসঃ

  অল্প খাবারের মধ্যে বেশি পুষ্টি পেতে সালাদ করে খাওয়া হয়ে থাকে। এতে খাবারে পুষ্টিগুণ আরো বেড়ে যায়। বিভিন্ন রকমের ড্রিঙ্কসের সাথে অথবা শরবতের সাথে চিয়া সিড মিশিয়ে খাওয়া হয়। বিশ্বব্যাপী চিয়া সিড দিয়ে শরবত পান করা অনেক জনপ্রিয়। 

পানিতে ভিজিয়েঃ

 ১-২ চামচ চিয়া সিড এক গ্লাস পানিতে ভিজিয়ে ১০-১৫ মিনিট রেখে খাওয়া যায়। এতে বীজ ফোলায় এবং জেল তৈরি হয়, যা হজমে সহায়তা করে। যা পুষ্টিগুণে শরীরের জন্য ভালো। 

                                                   

চিয়া সিড খাওয়ার উপকারিতা

ওজন কমাতে সাহায্য করেঃ

 চিয়া সিডে প্রচুর পরিমাণ দ্রবণীয় খাদ্য আঁশ থাকে যা হজম প্রক্রিয়াকে ধীরগতির করে।  ফাইবার সমৃদ্ধ চিয়া সিড পেটের খিদে কমায় এবং দ্রুত তৃপ্তি প্রদান করে। এটি আপনার ডায়েটে যুক্ত করলে ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে।

উচ্চ প্রোটিন ও ফাইবারঃ

 চিয়া সিড উচ্চ প্রোটিন ও ফাইবার সমৃদ্ধ। ফলে এটি দীর্ঘ সময় ধরে পেট ভরা রাখে, যা ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। ফাইবার থাকার কারণে এটি হজম প্রক্রিয়াও উন্নত করে।

হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়ঃ

 হৃদ রোগের ঝুঁকি বাড়ানোর জন্য সব থেকে বেশি দায়ী হলো এলডিএল কোলেস্টরেল। রক্তে যখন এই উপাদান বৃদ্ধি পায় তখন বিভিন্ন হৃদ রোগের জন্ম হয়। নিয়মিত চিয়া সিড গ্রহণ করলে তা এই ঝুঁকি থেকে আমাদের রক্ষা করে। এই কারণে চিকিৎসকগণ হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিকে নিয়মিত চিয়া সিড খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। 

হজম সমস্যা দূর করেঃ

 হজম প্রক্রিয়া সঠিক ভাবে পরিচালিত না হলে তা শারীরিক অসুস্থতার সৃষ্টি করে। যাদের মধ্যে ক্ষুধামন্দা, অনিদ্রা, পুষ্টিহীনতা ইত্যাদি অন্যতম। চিয়া সিড হজম সমস্যা দূর করে খাওয়ার রুচি বাড়ায় যা উপরে বর্ণিত সমস্যা থেকে মুক্তি দেয়। 

শক্তি বৃদ্ধিঃ

 চিয়া সিড একটি শক্তির উৎস হিসেবে কাজ করে। এটি সহজে হজম হয় এবং ব্যায়ামের আগে বা পরে এনার্জি বাড়াতে সহায়ক।

উপসংহারঃ  চিয়া সিড নিয়মিত খেলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে, ত্বক সুন্দর হয়, ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে। এছাড়াও এটি শরীরকে নানা রোগবালাই থেকে সুরক্ষা দেয়। তাই আমরা নিয়মিত চিয়া সিড খেতে পারি। চিয়া সিড একটি চমৎকার সুপারফুড যা আপনার স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারি।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

বিডি গুড আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url

Abdullah Al Bayezid
Abdulla Al Bayezid
একজন ডিজিটাল মার্কেটিং এক্সপার্ট ও বিডি গুড আইটির এডমিন। তিনি অনলাইন ইনকাম, ব্লগিং, SEO ও টেকনোলজি নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করেন। ৫ বছরের অভিজ্ঞতায় তিনি শিক্ষার্থীদের অনলাইনে সফল হতে সহায়তা করে যাচ্ছেন।